রূপচর্চার অন্যতম উপাদান হিসাবে প্রাচীনকাল থেকেই হলুদের কদর রয়েছে। সানট্যান দূর করতেও হলুদ খুব উপকারি। স্নানের আগে টক দই ও কাঁচা হলুদবাটা মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে শরীরের এক্সপোসড অংশে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে স্নান করে নিন। নিয়মিত মাখলে সানট্যানের সমস্যা অনেক কমে যাবে। হলুদে আছে অ্যান্টি-এজিং প্রপার্টি। বলিরেখা দূর করতে দুধের সরের সঙ্গে হলুদেরগুঁড়ো মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ধীরে ধীরে বলিরেখার সমস্যা কমে গেছে। কাঁচা হলুদবাটা, বেসন, চালেরগুঁড়ো, টক দই মিশিয়ে বাড়িতে স্ক্রাবার তৈরি করে ফেলতে পারেন। সপ্তাহে তিনদিন মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে সার্কুলার মুভমেন্টে ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে। ব্রণ বা ফোড়ার দাগ দূর করতেও হলুদ ভীষণ কার্যকর। কাঁচা হলুদ ও নিমপাতাবাটা মিশিয়ে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন দাগ আস্তে আস্তে উধাও হয়ে যাবে। হলুদ অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও দারুণ। যাদের ত্বক সেনসিটিভ বা অ্যালর্জিপ্রবণ, তাদের জন্য হলুদ খুব উপকারি। হলুদ জলে স্নান করলে র্যাশের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
হলুদ ও ময়দা: যে কোনো ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক স্ক্রাব তৈরি করতে হলুদ ও ময়দা মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি ত্বকের জন্য বেশ সংবেদনশীল ও উপকারি। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল কমায়।
হলুদ ও ময়দার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। উজ্জ্বল ও কোমল ত্বক পেতে চক্রাকারভাবে এটি ত্বকে লাগান এবং শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
হলুদ ও লেবুর রস: লেবুর রসে আছে ব্লিচিং উপাদান এবং হলুদে আছে ত্বক উজ্জ্বল করার উপাদান।
ত্বক উজ্জ্বল করতে হলুদের গুঁড়া ও লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
হলুদ ও দুধ: হলুদ ও দুধের মিশ্রণ ত্বকের ক্ষতি করে এমন উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে ত্বককে সুস্থ রাখে।
কাঁচাদুধের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগাতে হবে। শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
হলুদ ও মধু: ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা রক্ষা করে উজ্জ্বল ত্বক ফুটিয়ে তুলতে হলুদ ও মধুর মিশ্রণ সাহায্য করে।
মধুতে আছে প্রাকৃতিক ভাবে ত্বক আর্দ্র রাখার ক্ষমতা যা ত্বক উজ্জ্বল করে। মধু ও হলুদের তৈরি প্যাক ত্বক স্বাভাবিকভাবে চকচকে ও সুন্দর করে তোলে।
হলুদ ও নারিকেল তেল: হলুদ ও নারিকেল তেলে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান। তাছাড়া নারিকেলের তেল খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
খাঁটি নারিকেল তেলের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে লালচেভাব, সংক্রমণ ও শুষ্কতা কমাতে ব্যবহার করা যায়। ত্বক পরিষ্কার করে মুছতে পাতলা ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে ত্বককে বেশ প্রাণবন্ত মনে হবে।
হলুদ ও পানি: ত্বকের অবাঞ্ছিত লোমের বৃদ্ধি কমাতে প্রতিদিন হলুদ ও পানির মিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
যে স্থানে অবাঞ্চিত লোমের বৃদ্ধি কমাতে চান সেখানে হলুদ ও পানির মিশ্রণ তৈরি করে একটি অসমতল ও পরিষ্কার বস্তুর সাহায্যে ঘষতে হবে। শুকিয়ে এলে তা পরিষ্কার পানির সাহায্যে ধুয়ে ফেলতে হবে। পার্থক্য দেখতে যতবার সম্ভব এটি করতে পারেন।
হলুদ ও জলপাইয়ের তেল: হলুদে আছে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বক তরুণ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। জলপাইয়ের তেল ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করে।
হলুদ ও জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে তা মুখ ও গলায় লাগান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে হালকা মালিশ করুন। এতে নতুন কোষ বৃদ্ধি পাবে। পানি দিয়ে ধুয়ে নমনীয় ত্বক অনুভব করতে পারবেন।
হলুদের সঙ্গে লেবুর রস ও মধু: এই মিশ্রণ ত্বক ব্রণ মুক্ত রাখতে ও ত্বকের নির্জীবতা দূর করতে সাহায্য করে।
হলুদের সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে মুখ এবং গলায় ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে উজ্জ্বল ভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্রণও দূর হবে


No comments:
Post a Comment